Tuesday, May 30, 2017

রামগড় করেরহাট সড়কে দুর্ঘটনা যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে নিহত ৮


করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল নামক এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে গেলে এক বন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ জন। নিহতদের মধ্যে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করতে গিয়েই বাসটি রাস্তার পাশে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাস্থলে একজন মহিলাসহ চার জন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান ৫ জন। তবে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানান। ঘটনাস্থলে নিহত চারজনের মধ্যে পুলিশ দু’জনের লাশ উদ্ধার করে। এদের একজন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দংয়ের বাজারটিলার বাসিন্দা মৃত মুন্নাফ সওদাগরের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫)। অপরজন অজ্ঞাতনামা যুবক (২৮)। পুলিশ আসার আগেই অপর দু’ব্যক্তির লাশ নিয়ে যান স্বজনরা। মিরসরাইয়ের মোস্তাননগর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আবু তালেব (৫৫)। তিনি ফটিকছড়ির আঁধারমানিক বন বিট কর্মকর্তা। অন্যজন হচ্ছেন ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজার এলাকার বাসিন্দা আলী আশরাফ (৫০)। বারৈয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালে মারা যান মিরসরাই করেরহাটের বাসিন্দা মো. ইসমাইল (৫০)। এছাড়া ছাগলনাইয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান কয়লাবাজার এলাকার সুরোজ মিয়ার ছেলে মো. নুরুন্নবী (১৮)। তিনি বারৈয়ারহাট কলেজের ছাত্র।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন জানান, ফেনী থেকে মাটিরাঙার তাইন্দংয়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস (নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ৯৬১৮) দুপুর ১ টা ২০ মিনিটের সময় করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল এলাকায় উঁচু রাস্তা থেকে নামতি পথে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতবেগে আসা শান্তি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী চেয়ার কোচের প্রায় মুখোমুখি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মাটিরাঙাগামী বাসের চালক মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষার চেষ্টা করতেই বাসটি রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এ সময় শান্তি পরিবহনের বাসটি দ্রুত চলে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তাটির দু’পাশেই গভীর খাদ। দুটি যানবাহন ওভারটেক করার মত কোনো স্থানই নেই। এছাড়া রাস্তার দু’ধার বন জঙ্গলে ঢেকে থাকায় অল্প দূর থেকেও একটি গাড়ি থেকে অন্য গাড়িকে দেখা যায় না। এদিকে জনবসতিহীন ঐ এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে নিকটবর্তী রামগড় বিজিবির চেক পোস্টে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা ছুটে আসেন। লোকজনদের ডেকে এনে তারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঐ ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মজিবুর রহমান বলেন, তাদের ক্যাম্প থেকে প্রায় ১ কি.মি. দূরে ঐ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তার ছুটে যান। ঐ সময় গভীর খাদে আহত যাত্রীরা আর্তনাদ করছিলেন। রাস্তার পাশে গাছের সাথে রশি বেঁধে ঐ রশি ধরে তারা নীচে নেমে আহতদের উদ্ধার করে উপরে উঠিয়ে আনেন। তিনি বলেন, তারা একজন মহিলাসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করেন। মরদেহগুলো উপরে তুলে আনার পর স্বজনরা দু’জনের লাশ নিয়ে যান। বিজিবির নায়েক সুবেদার আরও জানান, আহতদের মিরসরাই, ফেনী, ছাগলনাইয়া, রামগড় প্রভৃতি স্থানে নিয়ে যান তাদের স্বজনরা। আহতদের মধ্যে বিজিবির একজন পরিচ্ছন্নকর্মীও রয়েছেন। তাকে গুইমারা সিএমএইচ-এ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় থেকে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে নির্দেশনা দেন। পরে জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। হতাহতদের উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ার পর মিরসরাই হতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে এনে পোঁছেন। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মুনির হোসেনও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাসটি গভীর খাদ থেকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

No comments:

Post a Comment