Tuesday, May 30, 2017

রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে উপকূলের মানুষ


যতোই ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছেই ততোই ঝূঁকিপূর্ণ মানুষজন ছুটেছে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। বাতাসের গতিবেগ ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকায় রাতেই কক্সবাজার উপকূলের মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার রাত ৯ টার পর থেকে কক্সবাজার শহরের সাগরতীর এলাকার নাজিরারটেক ও চরপাড়ার মানুষ গরু-ছাগল ও আসবাসপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কোর্ট বিল্ডিং, পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও স্কুলে স্কুলে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, সোমবার দুপুরের পর থেকে উপকূলের মানুষদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য যাতায়াতসহ সার্বিক ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখা দিয়েছে। এরপর পরেই উপকূলের মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। রাত ৯ টার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সাইক্লোন সেল্টার গুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঝুঁকির্পূণ মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে। রাতেই সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের পাবলিক লাইব্রেরি, কোর্ট বিল্ডিং ও সেন্টাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সাইক্লোন সেল্টারে মানুষের ভিড়। সোমবার রাত ৯ টার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শহরের নাজিরারটেক, সমিতি পাড়া, চরপাড়া, পশ্চিম ও উত্তর কুতুবদিয়া পাড়া, ফদনার ডেইল ও নুনিয়াছড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সাথে নিয়ে এসেছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ গরু-ছাগল। গভীররাতে পানি বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কে সাগরতীরবর্তী এসব মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে বলে জানা গেছে।

কোর্ট বিল্ডিংয়ের নিচে আশ্রয় নেয়া পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার সুরা খাতুন বলেন, ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের কথা শুনার পর পরেই আমরা পরিবারের আটজন নিয়ে রাতেই এখানে চলে এসেছি। নিজের ঘরটুকু তালা মেরে আশ্রয়ের জন্য কম্বল নিয়ে এখানে চলে আসি। প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস সাথে আনতে পারিনি।
এই জায়গায় আশ্রয় নেয়া চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন ও নুর হোসেন বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় সকালে ঘরের উঠান বরাবরে পানি উঠেছে। আর বাতাস ও বৃষ্টি হলে চরপাড়া এলাকা ডুবে যায় প্রায় সময়। তাছাড়া বৃষ্টি হলে প্রতিরাত ১০ টার পর প্লাবিত হয় আমাদের এলাকা। এছাড়া এখন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদস্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য মাইকিং করেছে। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নিয়েছি।

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে শহরের মধ্যে আমার ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সোমবার রাতেই এই ওয়ার্ড থেকে শিশুসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ে এই ওয়ার্ডের মানুষ ক্ষতি হয় বেশি। ডুবে যায় প্রতিটি বাড়ি-ঘর। ভেসে যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তাই প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে এখানে বসবাসকারী। সন্ধ্যার পর থেকে বিপদ সংকেত বেড়ে যাওয়ায় মানুষগুলো দ্রুত ছুটেছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান জানান, রাতভর উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য ২০টির অধিক বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব বাস নিয়ে মানুষদের নিয়ে আসা হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এছাড়া সাবক্ষর্ণিক স্বেচ্ছাসেবীরা অবস্থান করছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

No comments:

Post a Comment