Wednesday, May 31, 2017

Ramdan Mubarak


Ramdan Mubarak


Ramdan


Ramdan


Ramadan Iftar Timing Bangladesh 2017


Ramadan Iftar Timing Bangladesh 2017. This is 1438 according to the Islamic Calendar, known as Hijri Calendar. All Muslims are waiting to know the starting date of the holy Ramadan and they also need Sehri and Iftar Timings. Fasting during the month of Ramadan is one of the Five Pillars of Islam. The month is spent by Muslims fasting during the daylight hours from dawn to sunset. The Islamic Foundation, Bangladesh announces the exact timings of Ramadan after seeing the moon. As, all the timings and schedule is dependent on the sighting of the moon. So, Ramadan Sahri and Iftar Timing 2017 Bangladesh, is the exact date and timings of Ramadan for this year 2017 will be provided this website http://eduresult24bd.com/ after announced by Islamic Foundation, Ramadan Sahri and Iftar Schedule Bangladesh 2017

Enes Unal completes move to Villarreal from Man City

Villarreal have confirmed the signing of Manchester City striker Enes Unal for a fee of £12m.


Unal, 20, moved to the Etihad in 2015 from Turkish side Bursaspor, but since then he has spent his time on loan.
The Turkey international has enjoyed spells at Genk, NAC Breda and Twente and he managed 30 goals across his time at the three clubs.

Man Utd snub £60m Real Madrid David de Gea bid


Manchester United have turned down a £60m Real Madrid offer for David de Gea, according to Sky sources.
The Spain goalkeeper was within minutes of joining Real in August 2015 only for the deadline-day deal to collapse, and he went on to sign a new Manchester United contract.

Arsenal have taken a huge gamble - Arsene Wenger must now roll with the times to silence his critics


Five times Gazidis spoke about ‘pushing forward’, five times about ‘moving forward’, four times about ‘looking forward’. Three times he said that football is “constantly evolving”. And Arsenal’s job was not just to be evolving with it, but to be ahead of the curve.
All of which is surely true. But it does raise the question why Arsenal have just given a new two-year deal to a man who has been in his current role since October 1996.

NRL 2017: Will Hopoate’s re-signing with Canterbury increases pressure on other big name Bulldogs

Hopoate’s re-signing on a new three-year deal was announced on Thursday morning, locking the ex-NSW Origin rep into the blue and white until the end of 2020.

With Kieran Foran and Aaron Woods en route for 2018 on lucrative deals, Hopoate’s retention adds another sizeable spend to Canterbury’s payroll.
The club’s spending is understood to have raised eyebrows at the NRL, with concerns over how the Bulldogs will get under next year’s indicative $9.14 million salary cap, which is subject to the ongoing CBA discussions.
Earlier in the year Hopoate had been considered a likely casualty of Hasler’s looming roster overhaul.
But strong form since returning from injury and removing his religious grounds clause to sit out Sunday games have him now set for a long-term stay under the Bulldogs boss.

সন্তানদের কোটি টাকার সম্পদ দিয়েও ভিক্ষা করেন মা-বাবা


৭৫ বছর বয়সী বাবা প্রায় দুই কোটি রুপির সম্পদ সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। শেষ বয়সে বুড়ো-বুড়িকে সন্তানরা আগলে রাখবেন এতটুকুই চাওয়া ছিল তাদের। সম্পত্তি নেয়ার আগে সন্তানরাও কথা দিয়েছিলেন, প্রতিমাসে মা-বাবাকে ৫ হাজার রুপি করে খরচ দেবেন।


তবে সম্পদ হাতে আসার পর সব কথাই যেন বাতাসে মিলিয়েছে। স্বার্থপর সন্তানরা মাসিক কোনও খরচ তো দেননি, তার উপর মা-বাবার খোঁজও রাখেননি তারা।

কোটি টাকার সম্পদ হারানো উপায়ন্তরহীন বাবা-মা বর্তমানে অন্যের বাড়িতে কাজ করে নয়তো ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করছেন।

সম্প্রতি হতভাগ্য কৃষক বাবন দিবাকর ও তার স্ত্রী সরস্বতি সন্তানদের বিরুদ্ধে খরচ চেয়ে মামলা করলে ভারতের মহারাষ্ট্রের এ ঘটনা সবার সামনে আসে। এ নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে চলছে তুমুল আলোচনা। খবর এনডিটিভির।

জানা যায়, শিরির কার্দি গ্রামের বাসিন্দা বাবন দিবাকরের ১৯ একরের উপর জমি ছিল। সন্তানদের সঙ্গে কথাবার্তার প্রেক্ষিতে এই জমি তিন সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেন বাবন। কিন্তু সন্তানরা জীবন ধারণের খরচ না দেয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবন আর তার স্ত্রী আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন। তিন ছেলে বালাসাহেব (৫০), কিসান (৪৫) এবং চন্দ্রকান্তের (৪০) বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা।

বাবন বলেন, '২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট আমি সন্তানদের মধ্যে জমি ভাগ করে দেই। জমি ভাগের পর প্রথম দুই-তিন মাস সন্তানরা ঠিকমতোই খরচ পাঠাচ্ছিল। এরপরেই তারা গড়িমসি শুরু করে। টাকা চাইতে গেলে তারা আমাকে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে ঘুরিয়ে মারে। তবে জমি নেয়ার আগে তারা কতই না মধুর কথা বলতো।'

এদিকে বাবনের প্রথম সন্তান বালাসাহেব শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। তার মাসিক আয় ৫০ হাজারের বেশি। তিনি অবশ্য তার বাবা-মায়ের উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

অন্যদিকে কৃষক বাবনের ছোট ছেলে চন্দ্রকান্ত বাবার মতোই কৃষক। তার দাবি, ফসল ঠিকমতো না হওয়ায় বাবা-মাকে সাহায্য করতে পারছেন না। তবে তাদের নিজের কাছে এনে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ প্রধানের পদত্যাগ



হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ প্রধান মাইক দুবকে পদত্যাগ করেছেন। মাত্র তিন মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রশাসন ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে মঙ্গলবার নিজেই জানান মাইক।


গণমাধ্যমের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের কৌশল আরও উন্নত করার লক্ষ্যে মাইককে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব শন স্পাইসার তার পদে বহাল থাকবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় রদবদলের হতে পারে এমন সম্ভাবনার মধ্যে মাইক পদত্যাগ করেছেন। মাইক জানান, গত ১৮ মে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশ সফর থেকে দেশে না পর্যন্ত তিনি স্বপদে ছিলেন।

মাইক বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভালো আলাপ হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন তিনি।

কক্সবাজারে এখনো নিখোঁজ দেড় শতাধিক জেলে



কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে ১১টি মাছ ধরার ট্রলারসহ দেড় শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বোট মালিক সমিতি এবং কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।


বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোটের লোকজন ২৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে। তবে নিখোঁজের বিষয়ে কোনো তথ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুর রহমান।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১১টি মাছ ধরার ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। এসব ট্রলারে অন্তত দেড় শাতাধিক জেলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতি।

তবে বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর (জাহাজ খাদেম) সদস্যরা ২০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। এসময় আরো পাঁচ জেলেকে ফিশিং বোটের লোকজন উদ্ধার করেছে।

নিখোঁজ বোটগুলোর মধ্যে মহেশখালীর আব্দুর শুক্কুর কমিশনারের মালিকানাধীন এফবি ওয়ালিদ নামে ২টি এবং এফবি সায়েদ নামে ১টি, খোরশেদের মালিকানাধীন এফবি মিতালি, মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার বাঁশি মাঝির ১টি। এছাড়া সদর উপজেলার খুরুশকূল মামুন পাড়ার লুলাইয়া বহদ্দারের ২টি বড়শি বোট নিখোঁজ রয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪টি বোট নিখোঁজ রয়েছে। তবে এসব ট্রলারের মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

আব্দুর শুক্কুর নামে একজন বোট মালিক জানান, ঘূর্ণিঝড় শুরুর ৩দিন আগে তার মালিকানাধীন ৩টি নৌকা নিয়ে ৬১ জন মাঝিমাল্লা সাগরে মাছ ধরতে যায়। এখনো তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য স্ব-উদ্যোগে সাগরে একটি ট্রলার পাঠানোর কথা জানিয়েছে তিনি।

এদিকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির এক সভায় জানানো হয়- এ পর্যন্ত তাদের সমিতিভুক্ত ৪টি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া সমিতির বাইরে ২টি বড়শি বোটও নিখোঁজ রয়েছে।

এ ব্যাপারে সমিতির তত্ত্বাবধায়নে বোট মালিক পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, আমাদের সমিতিভূক্ত যেসব নৌকা রয়েছে সেখানে ৪টি নৌকা নিখোঁজের খবর আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখনো নিহতের কোনো খবরা-খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার নয়ন বড়ুয়া বলেন, আমাদের কাছে নিখোঁজের কোনো তথ্য নেই। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে চট্টগ্রাম থেকে ২টি নৌবাহিনীর জাহাজ কক্সবাজারের উপকূলে টহলে আসবে। ভাসমান নৌকা কিংবা জেলে উদ্ধারের জন্য কাজ করবে তারা।

কুতুবদিয়া উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যরা ২০ জন জেলে এবং ফিশিং বোটের সদস্যরা পাঁচজন জেলেকে উদ্ধার করছে। এদের মধ্যে ২০ জন কুতুবদিয়ার অন্য পাঁচজন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্দা বলে জানানো হয়।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী বলেন, বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোট লোকজন ২৫ মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করে। তারমধ্যে দুইজন বাঁশখালী এলাকার এবং বাকি ২৩ জন কুতুবদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় জেলেদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার ৪টি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুর রহমান বলেন, যতজন জেলে নিখোঁজ ছিল তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখন আর কোনো নিখোঁজের তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপরও আমরা খবর পেলে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাব।
 
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতি করি। কেবল সরকারে নয়, বিরোধীদলে থাকতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। '

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ' ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক রয়েছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয়- তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হই। '

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'য় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে। 

' তিনি জানান, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। 

' তিনি বলেন, 'সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে। '

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকার নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার 'মুজিব কেল্লা'র উন্নয়নসহ নতুন নতুন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানি হলেও তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিদারুণ ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় বিএনপি সরকারের কোন পূর্ব প্রস্তুতিই ছিল না। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস হয়। বিপুল সংখ্যেক গবাদি পশু ভেসে যায়। নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এমনকি মারা যাওয়া মানুষের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওই সময় আমি সংসদে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংসের কথা তুলে ধরলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি'। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, 'কত মানুষ মারা গেলে আপনার তত মানুষ হতো ?'  খালেদা জিয়া ‌ওই প্রশ্নের জবাব দেননি। " কত লাখ মানুষ মারা গেছে, কত গবাদি পশু ভেসে গেছে, কত ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে- তার খোঁজখবরও বিএনপি সরকার রাখেনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাওরসহ দুর্গত এলাকায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হবে। তবে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু ও শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা একপর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম এসে যাওয়ায় আবারো নদীভাঙন শুরু হয়ে যায়।'
- See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=63223#sthash.YlNUvoNg.dpuf

ঝুঁকি নিয়ে উচ্চাভিলাষী বাজেট




জনগণকে তুষ্ট করতে ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। আর এ উন্নয়ন সফল করতে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘চাপাচাপি যা করার এ বাজেটেই করা যাবে। এর পরের বাজেটে থাকবে নির্বাচনী হাওয়া।’ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের জন্য এটি হচ্ছে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর ‘চাপাচাপির’ ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য মেলাতে অর্থমন্ত্রীকে নতুন বছরে কঠোর হতেই হবে। বাড়তি রাজস্ব আয়ের জন্য বিদ্যমান করের আওতা সম্প্রসারণসহ নতুন নতুন খাত থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে।


এজন্য অর্থমন্ত্রীর সামনে একটাই পথ- বিতর্কিত নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা। এটি অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ আইনটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের ওপর করের বোঝা ব্যাপক বাড়বে। দ্রব্যমূল্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় যে প্রভাব, তা পড়বে স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের ওপর। আমদানি পণ্যের কাছে দেশীয় পণ্য মার খাবে। সব মিলিয়ে এসব আশঙ্কা আর ঝুঁকি মাথায় নিয়েই উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করেছেন অর্থমন্ত্রী।

আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী এক বাজেট পেশ করতে যচ্ছেন অর্থমন্ত্রী, যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। দুপুর দেড়টায় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি হবে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের একাধারে ৯ বার বাজেট উপস্থাপন। এছাড়া বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ এবং অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ১১তম বাজেট। এতে অর্থ সংস্থানের জন্য সম্প্রসারণমূলক কর পরিধি ও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আদায় বাড়াতে থাকছে নানামুখী পদক্ষেপ।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রস্তাবিত এ বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এতে মোট রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কর ব্যতীত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের কর রাজস্ব ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং নন এনবিআর করের লক্ষ্য ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ব্যতীত প্রাপ্য হচ্ছে ২৪ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের ঘোষণা থাকছে বাজেটে। পাশাপাশি ভ্যাট অব্যাহতির বিদ্যমান সীমা ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা এবং টার্নওভারের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া টার্নওভার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য থাকছে বিশেষ বরাদ্দ।

অর্থমন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের সর্বনিন্ম আয়কর সীমার পরিমাণ বাড়ছে। বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে পৌনে ৩ লাখ টাকা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেয়ারবাজারের জন্য কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে কর্পোরেট ট্যাক্স হারে পরিবর্তন হচ্ছে না। এ ছাড়া নতুন ভ্যাট আইন সংশোধন করে সম্পূরক শুল্কহারে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদিও নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি আমদানি পণ্য ছাড়া ১ হাজার ১৯২ পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক বিলুপ্তের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজস্ব কাঠামো নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ শতাধিক পণ্যে সম্পূরক শুল্কহারে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব থাকছে।

অপরদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১১ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে ৫২ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা, ভর্তুকি খাতে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ঋণের সুদ পরিশোধে ৪২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা এবং সরবরাহ ও সেবায় ব্যয় হবে ২৫ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়বে ৪০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।

তবে ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দের মধ্যে খাদ্য খাতে ৪ হাজার কোটি টাকা ও অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, প্রণোদনা বাবদ কৃষি খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা, রফতানিতে ৪ হাজার কোটি টাকা ও পাটজাত দ্রব্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনুকূলে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। এ ছাড়া আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকছে। এ ঘাটতির সম্ভাব্য পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর অনুদান পাওয়া যাবে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও কঠিন মনে হয়েছে নতুন ভ্যাট আইন। আগামী বাজেটে ১৫ শতাংশ থাকছে ভ্যাটের হার। এবার মানবসম্পদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশে কিছু অবহেলিত অঞ্চলকে বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়বে। সংখ্যালগুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর পরে হবে (২০১৮-১৯) নির্বাচনী বাজেট। সেখানে নতুন কিছু থাকবে না। যা কিছু হবে এ বাজেটে। পরবর্তী বাজেটে করের হার বাড়ানোর চিন্তা কম থাকবে। আমার দৃষ্টিতে এটি হবে আমার দেয়া সবচেয়ে ভালো বাজেট।

আগামী বাজেটে টাকার অঙ্কে জিডিপির আকার ঠিক করা হয়েছে ২২ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। পণ্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ থাকবে- এমন পূর্বাভাস দিয়েই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা থাকছে বাজেটে।

এ ছাড়া আগামী বছর অগ্রাধিকার পাচ্ছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, কর্মসৃজন, বন্দরের সার্বিক ভৌতকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি সেবায় তথ্যপ্রযুক্তি বাড়ানো, জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন, প্রবাস আয় বৃদ্ধি ও নতুন নতুন রফতানির বাজার সৃষ্টি।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা আসছে। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হবে বছরে দুটি উৎস বোনাস। আর্থিক দিক থেকে প্রতিটি বোনাসের পরিমাণ হবে এক মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার সমান (১০ হাজার টাকা)। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় নতুন করে আরও ২০ হাজার জনকে আনা হচ্ছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১০০ কোটি টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫৬ লাখ গরিব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৫২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। এ কর্মসূচির ৯টি খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকছে ৭ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।

সূত্রমতে, ১ হাজার ৫০০ সিসির স্ল্যাব ভেঙে ১ হাজার সিসির নতুন স্ল্যাব করা হচ্ছে। এই গাড়ির ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থাকছে। আগে এসব গাড়ি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো। এ ছাড়া ২ হাজার ১ সিসি থেকে ২ হাজার ৭৫০ সিসি পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক ২০০ থেকে ২৫০ শতাংশ বাড়ছে। গণপরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ থেকে ৩০ হচ্ছে। দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট অটোরিকশা, থ্রি হুইলারের ইঞ্জিন, চার স্টোক অটোরিকশা, থ্রি হুইলারের ইঞ্জিনের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্কহার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিভিন্ন মানের সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। এতে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। নিন্মমানের সিগারেটের মূল্যস্তর ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৭ টাকা এবং বিদেশি কোম্পানির জন্যে ৩৫ টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে যথাক্রমে ৫২ ও ৫৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসি অনুযায়ী মোটরগাড়ি, মাইক্রোবাস, তৈরি ও বিযুক্ত মোটরসাইকেলসহ নতুন ও ব্যবহৃত যানবাহনে নতুন ভ্যাট আইনে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এনার্জি ড্রিংক, কোমল পানীয়, ফলের রস, তামাকযুক্ত সিগারেট, জর্দা, গুল, সিগারেট পেপার, বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী, সিরামিক সামগ্রীসহ ৩১টি এইচএসকোডযুক্ত পণ্যে সরবরাহ পর্যায়ে বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকছে। পাশাপাশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, টেলিফোন, সিমকার্ড (রিপ্লেসমেন্টসহ) সরবরাহকারী, বিদেশি শিল্পীদের বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক, স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটরসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যাংক হিসাব এবং বিমানের টিকিটে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক নির্ধারিত আছে। এনবিআরের নতুন প্রস্তাবে ৫ কোটি ১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব পরিমাণের ব্যাংক ডিপোজিটের বিপরীতে ৩০ হাজার টাকা এবং আন্তর্জাতিক বিমান টিকিটের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসানো হচ্ছে।

সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরে ভ্যাট, স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক এবং টার্নওভার কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাত থেকে আয় ধরা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ব্যাপক পরিবর্তন এবং সংশোধন করার ঘোষণা দেয়া হবে বাজেটে।

জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে www.mof.gov.bd বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন।

Bangla Islamic Gogol

Tuesday, May 30, 2017

দুর্যোগ দেশে, মন্ত্রী,সচিব,ডিজি বিদেশে

দেশের উপকূলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হেনেছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার বিবেচনায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলার দায়িত্ব যে মন্ত্রণালয়ের হাতে তা ছিল অভিভাবকহীন। কারণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব দু’জনই রয়েছেন বিদেশ সফরে।
শুধু তাই নয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকও (ডিজি) রয়েছেন বিদেশে।
- বিজ্ঞাপন -
‘গ্লোবাল প্লাটফর্ম ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২৩ মে মেক্সিকোর কানকুনে গেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সচিব শাহ কামাল। মায়া ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদও রয়েছেন এ প্রতিনিধি দলে। বুধবার (৩১ মে) তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
২০১১ সালের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও অনুসরণীয় আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ওই পরিপত্রে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবগণের একসঙ্গে বিদেশভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-এর বার্ষিক সভা, দাতাগোষ্ঠীর সভা) একত্রে বিদেশভ্রমণ অপরিহার্য হলে অত্যন্ত সীমিত ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় করা যেতে পারে।’
দেশে বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিপত্রে এ ধরণের ভ্রমণ পরিহার করার কথা বলা হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা রয়েছে মন্ত্রীর নিজের দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ঠিকই বলেছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এ ধরণের একটি অনুশাসন আছে। এই যে একটা দুর্যোগ… আরও বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। এ সময়ে মন্ত্রী মহোদয় গেলে, সচিবের থাকা উচিত। খুব জরুরি কোনো বিষয় ছাড়া দুজনের একসঙ্গে যাওয়া উচিত নয়। চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় থাকলে মন্ত্রী-সচিবের একসঙ্গে যেতে পারেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের আরও বলেন, আমি সঠিকভাবে জানি না কোনো বাধ্যবাধকতা (ওই সম্মেলনে যাওয়ার বিষয়ে) আছে কিনা, দু’জনের যাওয়াটা জরুরি ছিল কিনা? তা না হলে মনে হয় একজনেরই যাওয়া উচিত। দুজন একসঙ্গে গেলে সমস্যা হতে পারে।
অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তারা তো সরকারি দায়িত্ব পালন করতেই গেছেন। তারা তো জানতেন না এ রকম একটা ঘটনা ঘটবে। আমরা যারা আছি আমরা তো তার কাজ করি। আমরা সবাই কাজ করতে পারি। গতকাল আমাদের প্রতিটি লোক কাজে ব্যস্ত ছিল।

সিনেমায় আসছে এক্সমেনের ছোট্ট লরা


উলভারিনের সর্বশেষ ছবি লোগান এ দেখা গেছে ‘এক্স-২৩’ চরিত্রখ্যাত মিউট্যান্ট লরাকে। অভিষেকেই দর্শকদের মন ছুঁয়েছেন এই শিশু শিল্পী। ছবির প্রযোজক হাচ পার্কার জানিয়েছেন ভবিষ্যতে একক ছবিতেও দেখা যেতে পারে লরাকে।
ফক্স মুভিজ তাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এক্স-মেনের কোনও ছবিতে তাকে দেখা যাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন পার্কার। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে চাই যে তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু অন্যকোনও ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে তাকে ব্যবহার করা হবে না। পুরোপুরি তার চরিত্রের উপরেই মনোযোগ দেওয়া হবে। এটা দারুণ, কারণ কমিকসে তাকে নিয়ে অনেক গল্পই আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিম আসলে একজন গল্পকার, নির্মাতা। এভাবেই নিজের কাজ করে যান তিনি। আমরা তাকে নিয়ে আলাদা সিনেমা তৈরির ব্যাপারেই আগ্রহী।’

টাকাওয়ালাদেরই কেন আরো টাকা হয়?


বিনিয়োগ করার মতো সামান্য কিছু টাকা যখন আমাদের হাতে জমা হয় তখন আমরা সাধারণত তা দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড কেনার কথা ভাবি, অথবা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করি। তবে সত্যিকার অর্থেই যারা বিত্তবান তারা কখনো এটা করবে না। এমন সব সম্পদ, শিল্প এবং ব্যবসার পেছনে তারা তাদের অর্থ বিনিয়োগ করবে, যা আমাদের কাছে হয়তো স্বপ্ন মাত্র। তাদের নগদ অর্থ বিনিয়োগের পদ্ধতি আমাদের থেকে আলাদা। আর এসব আলাদা প্রকৃতির বিনিয়োগের কারণেই তারা সাধারণের ধরা-ছোঁয়ারও বাইরে থেকে যায়।

উদাহরণ হিসেবে মার্কিন ব্যবসায়ী জশুয়া কোলেম্যানের কথাই ধরা যাক। তার পরিবারের যখন ২০০৪ সালে তাদের শিকাগো-ভিত্তিক টেলিকম কোম্পানিটি ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় তখন তারা ওই অর্থ যত্রতত্র খরচ করে উড়িয়ে দেয়নি। নিজেদের অর্থ রক্ষা এবং তা বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ গ্রহণ করতে থাকে তারা।

বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী কোলেম্যান একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ে। ২০১১ সালে তিনি ‘মোমেন্টাম অ্যাডভান্স প্লানিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এর কাজ ছিল লোকদের আইনগত, কর সংক্রান্ত এবং সম্পদ বিনিয়োগ বিষয়ক পরামর্শ দেয়া। এক পর্যায়ে ব্যবসাটি শীর্ষে পৌঁছে যায়।
এছাড়া বিত্তবানরা তাদের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন সব জায়গা খুঁজে নেন, যা হয়তো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবতেও পারে না। তারা বিভিন্ন ব্যবসাতে কমপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে। আর এতে একটি বড় ধরনের লাভসহ তাদের বিনিয়োগ ফিরে আসে। উদাহরণ হিসেবে বিমান ইজারা নেয়ার কথা জানান লন্ডন-ভিত্তিক পরামর্শক কোম্পানি ‘ফ্লেমিং ফেমিলি এবং পার্টনার্স’র প্রধান নির্বাহী।

তার অনেক মক্কেল ডোরিক নামের একটি কোম্পানির সাথে কাজ করে। কোম্পানিটি তাদের বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিমান কেনার জন্য বিনিয়োগ করে। ক্রয়কৃত বিমান তারা অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের মতো বড় বড় বিমান পরিবহণ কোম্পানির কাছে ভাড়া দেয়। বিমানগুলো যখন বিক্রি করে দেয়া হবে তখন বিনিয়োগকারীরা তাদের সমুদয় অর্থ ফেরত পাবে, সাথে ৯ শতাংশ হারে পাবে লভ্যাংশ।
অনেক ধনী বিনিয়োগকারীই বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা সামনে রেখে কৃষিভূমি কেনার জন্য তাদের অর্থ বিনিয়োগ করছেন। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী মার্শ জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাবারের চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ করা মানে নিশ্চিত লাভ। আবাদী ভূমিগুলো নিশ্চিত সম্পদের উৎস। সুতরাং এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।
ধনী ব্যবসায়ীদের জন্য এটাকেও এক ধরনের প্রকৃতিগত স্বভাব বলা যায় যে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোম্পানি কেনার সুযোগ খোঁজেন। নতুন নতুন ব্যবসা বাড়াতে চান তারা। কোলেম্যানের কথাই ধরা যায়। অন্য অনেক নতুন কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এর বেশিরভাগই পেশাগত সেবা এবং প্রযুক্তি খাতে। বর্তমানে তিনি এতোবেশি সংখ্যক কোম্পানির সাথে জড়িত যে নিজেও হয়তো তার হিসেব দিতে পারবেন না। কোলেম্যানের ভাষায়, ‘সংখ্যাটা প্রচুর।’

লন্ডন-ভিত্তিক ব্যবসায়ী হাডসন জানান, বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য, গাড়ি, ঘড়ি, ওয়াইন এমনকি সঙ্গীতের যন্ত্রপাতির মতো আবেগমূলক খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রচুর। ২০১৩ সালেই এসব খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ আগের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান হাডসন।
কানাডার টরোন্টো-ভিত্তিক ‘আরবিসি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট’র উপপ্রধান পল প্যাটারসন বলেন, বিত্তবান ব্যবসায়ীরা কখনো একই স্থানে বিনিয়োগ করে বসে থাকে না। তারা কমপক্ষে সাত থেকে আটটি জায়গায় বিনিয়োগ করে। অনেকে অন্যদের ব্যবসায়েও বিনিয়োগ করে থাকে। লন্ডন, নিউইয়র্কের মতো বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে বিনিয়োগ করে তারা।
থাকার সুবিধার জন্য শহরগুলোতে বাড়িও কিনেন অনেকে। তারা যখন থাকেন না তখন এসব বাড়ি ভাড়া দেয়া হয়। আর এভাবেই ধনী ব্যবসায়ীরা সময় ও অর্থ কোনোটাই অপচয় না করে যর্থার্থ খাতে বিনিয়োগ করেন।
এটাই সাধারণ বিনিয়োগকারী আর ধনী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পার্থক্য।
[বিবিসি অবলম্বনে]
মরিয়ম আকতার, ব্যাংকার

উপকূলের কাছেই ‘মোরা’


ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশ উপকূলের ৩০৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এজন্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর এবং পায়রা ও মংলা বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার শক্তির ঝড়ো হাওয়া নিয়ে এ ঘূর্ণিঝড় আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও হাতিয়া হয়ে উপকূল রেখা অতিক্রম করতে পারে। তিনি জানান, সোমবার বিকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী হচ্ছিল। উপকূলের কাছাকাছি এসে ‘মোরা’র শক্তি বেড়ে যাওয়ায় মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের মানে হল- বন্দর প্রচ- বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে নিপতিত। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচ- ঝড়টি বন্দরের উপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানায়, ৬৫ থেকে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ‘ভারি বর্ষণ’, ১১৫ থেকে ২০৫ মিলিমিটার পর্যন্ত ‘অতি ভারি বর্ষণ’ এবং ২০৫ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে ‘চরম ভারি বর্ষণ’ বলেন আবহাওয়াবিদরা।
কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় সোমবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বিকালে কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উপকূলীয় ১৯ জেলায় মাইকিং করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে। মেডিকেল টিম গঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য। উপকূলবাসীর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতংক বিরাজ করছে।

 দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিকাল থেকে সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিএ। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে সকাল থেকেই।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা বলেছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব প্রস্তুতিই তারা নিয়েছেন। ঝড়ের কারণে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থেকে প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা থেকে ৩৯০ কিলেমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল মোরা।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬২ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল থাকায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমের সময় দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে থাকতে পারে অতি ভারি বর্ষণ।
বুয়েটের ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার এন্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএফএম)-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় ১২৮ মিলিমিটার থেকে ২৫৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, প্রতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। অন্তত ২০০ কিলোমিটার ব্যসের এই ঘূর্ণিঝড় সকাল ৬টায় উপকূল অতিক্রম শুরু করলে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠতে দুপুর হয়ে যেতে পারে।
সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং পরদিন তা ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় রূপ নেয়। পরে সেটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এর আগে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, মোরা সিডরের মতো অতোটা শক্তিশালী হয়তো হবে না, তবে এখনও এটার বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার বেশি। সেক্ষেত্রে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থাকবেই।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃতি : ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রকে ‘চোখ’ বলে। আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি দুর্যোগপূর্ণ থাকে ওই ‘চোখ’ এর চারদিকের এলাকায়। ওই এলাকাকে বলে ‘চক্ষুপ্রাচীর’। যে মেঘবলয় কু-লী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয় তাকে কুন্ডলীগত বৃষ্টিবলয় বলা হয়। এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সামনে ডান-চতুর্থাংশে অতি ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া এবং এমনকি কি টর্নেডোও সৃষ্টি করে থাকে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের যেখানে কম মেঘ থাকে, সেখানে অনেক সময় ১০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ঝড়ের ‘চোখ’ দেখা যায়। এ ‘চোখ’ অতিক্রমকালে সাময়িকভাবে অতি হালকা বৃষ্টিপাত ও সামান্য বাতাসসহ আবহাওয়া শান্ত থাকার সম্ভাবনা থাকে।
‘মোরা’ জোয়ারে এলে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি : আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ উপকূলে আঘাতের সময় যদি জোয়ার থাকে তাহলে জলোচ্ছ্বাস বেশি হবে। এমনটি হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করার পর গতকাল সোমবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘মোরা’। আজ মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টির চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কয়েক দিন ধরে এই সময় দেশের উপকূলীয় এলাকায় জোয়ার শুরু হচ্ছে। তাই জোয়ারের সময় ‘মোরা’র আঘাতের ক্ষতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদের মধ্যে।
কিন্তু পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত তিনটায় কর্ণফুলী নদীতে প্রথম ভাটা হবে আর প্রথম জোয়ার আসবে সকাল সোয়া ১০টায়। তার মানে ‘মোরা’ যদি সকালের দিকে অর্থাৎ ৬টা থেকে ১০ টার আগে আঘাত হানে তাহলে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য এদিক-সেদিক হলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল, না-হয় বঙ্গোপসাগর-মেঘনা নদীর মোহনার ওপর দিয়ে ‘মোরা’ বাংলাদেশের স্থলভাগে পেরিয়ে যাবে। এ সময় সাগর ও স্থলভাগে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদগণ জানান, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে ঘূর্ণিঝড়টি যদি অবিরাম বৃষ্টি ঝরতে থাকে, তাহলে এটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যেমনটি ২০১৩ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি ‘ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের’ অবস্থা হয়েছিল। মহাসেন বঙ্গোপসাগরে পাঁচ দিনে যে শক্তি অর্জন করেছিল, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে তা ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে ওই বছর ১৭ মে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রমের সময় দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি।

চট্টগ্রাম জেলায় ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু


ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিতে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। ৬ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
এছাড়াও জেলায় ২৮৪টি মেডিকেল টিমকে ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সব চিকিৎসক-নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিভিল সার্জন, নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন ছাড়াও সিটি করপোরেশন (চসিক) নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলাসহ উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোর লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে চার লাখ ৪৫ হাজার ৮৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়াও অনেক স্কুল-কলেজ রয়েছে। এসবও খুলে দেয়া, অফিস-আদালতও খুলে দেওয়া হবে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিসি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা ও উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েও ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। সেখানে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রস্তুতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। সরকারিভাবে নগদ ছয় লাখ ৭২ হাজার টাকা ও ৩৪২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমরা আর সময়ের অপেক্ষা করছি না। সবাইকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসতে বলা হচ্ছে। কেউ না আসতে চাইলে জোর করে আনার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সময় একেবারে কম।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক সিদ্দিকী বলেন, জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৮৪টি মেডিকেল টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে একজন চিকিৎসক আর দুইজন সহকারী রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ১৪ টি উপজেলায় ১৬ থেকে ২৫টি মেডিকেল টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
সভায় রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল টিম, এম্বুলেন্স সহযোগে জরুরি মেডিকেল সার্ভিস প্রদানে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীতে টিউবওয়েল সংস্কার করার জন্য ৬০ জন মেকানিকস্কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে কৃষি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও এনজিও সংস্থাগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

রামগড় করেরহাট সড়কে দুর্ঘটনা যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে নিহত ৮


করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল নামক এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে গেলে এক বন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ জন। নিহতদের মধ্যে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করতে গিয়েই বাসটি রাস্তার পাশে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাস্থলে একজন মহিলাসহ চার জন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান ৫ জন। তবে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানান। ঘটনাস্থলে নিহত চারজনের মধ্যে পুলিশ দু’জনের লাশ উদ্ধার করে। এদের একজন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দংয়ের বাজারটিলার বাসিন্দা মৃত মুন্নাফ সওদাগরের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫)। অপরজন অজ্ঞাতনামা যুবক (২৮)। পুলিশ আসার আগেই অপর দু’ব্যক্তির লাশ নিয়ে যান স্বজনরা। মিরসরাইয়ের মোস্তাননগর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আবু তালেব (৫৫)। তিনি ফটিকছড়ির আঁধারমানিক বন বিট কর্মকর্তা। অন্যজন হচ্ছেন ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজার এলাকার বাসিন্দা আলী আশরাফ (৫০)। বারৈয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালে মারা যান মিরসরাই করেরহাটের বাসিন্দা মো. ইসমাইল (৫০)। এছাড়া ছাগলনাইয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান কয়লাবাজার এলাকার সুরোজ মিয়ার ছেলে মো. নুরুন্নবী (১৮)। তিনি বারৈয়ারহাট কলেজের ছাত্র।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন জানান, ফেনী থেকে মাটিরাঙার তাইন্দংয়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস (নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ৯৬১৮) দুপুর ১ টা ২০ মিনিটের সময় করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল এলাকায় উঁচু রাস্তা থেকে নামতি পথে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতবেগে আসা শান্তি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী চেয়ার কোচের প্রায় মুখোমুখি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মাটিরাঙাগামী বাসের চালক মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষার চেষ্টা করতেই বাসটি রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এ সময় শান্তি পরিবহনের বাসটি দ্রুত চলে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তাটির দু’পাশেই গভীর খাদ। দুটি যানবাহন ওভারটেক করার মত কোনো স্থানই নেই। এছাড়া রাস্তার দু’ধার বন জঙ্গলে ঢেকে থাকায় অল্প দূর থেকেও একটি গাড়ি থেকে অন্য গাড়িকে দেখা যায় না। এদিকে জনবসতিহীন ঐ এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে নিকটবর্তী রামগড় বিজিবির চেক পোস্টে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা ছুটে আসেন। লোকজনদের ডেকে এনে তারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঐ ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মজিবুর রহমান বলেন, তাদের ক্যাম্প থেকে প্রায় ১ কি.মি. দূরে ঐ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তার ছুটে যান। ঐ সময় গভীর খাদে আহত যাত্রীরা আর্তনাদ করছিলেন। রাস্তার পাশে গাছের সাথে রশি বেঁধে ঐ রশি ধরে তারা নীচে নেমে আহতদের উদ্ধার করে উপরে উঠিয়ে আনেন। তিনি বলেন, তারা একজন মহিলাসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করেন। মরদেহগুলো উপরে তুলে আনার পর স্বজনরা দু’জনের লাশ নিয়ে যান। বিজিবির নায়েক সুবেদার আরও জানান, আহতদের মিরসরাই, ফেনী, ছাগলনাইয়া, রামগড় প্রভৃতি স্থানে নিয়ে যান তাদের স্বজনরা। আহতদের মধ্যে বিজিবির একজন পরিচ্ছন্নকর্মীও রয়েছেন। তাকে গুইমারা সিএমএইচ-এ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় থেকে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে নির্দেশনা দেন। পরে জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। হতাহতদের উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ার পর মিরসরাই হতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে এনে পোঁছেন। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মুনির হোসেনও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাসটি গভীর খাদ থেকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে উপকূলের মানুষ


যতোই ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছেই ততোই ঝূঁকিপূর্ণ মানুষজন ছুটেছে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। বাতাসের গতিবেগ ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকায় রাতেই কক্সবাজার উপকূলের মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার রাত ৯ টার পর থেকে কক্সবাজার শহরের সাগরতীর এলাকার নাজিরারটেক ও চরপাড়ার মানুষ গরু-ছাগল ও আসবাসপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কোর্ট বিল্ডিং, পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও স্কুলে স্কুলে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, সোমবার দুপুরের পর থেকে উপকূলের মানুষদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য যাতায়াতসহ সার্বিক ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখা দিয়েছে। এরপর পরেই উপকূলের মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। রাত ৯ টার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সাইক্লোন সেল্টার গুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঝুঁকির্পূণ মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে। রাতেই সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের পাবলিক লাইব্রেরি, কোর্ট বিল্ডিং ও সেন্টাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সাইক্লোন সেল্টারে মানুষের ভিড়। সোমবার রাত ৯ টার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শহরের নাজিরারটেক, সমিতি পাড়া, চরপাড়া, পশ্চিম ও উত্তর কুতুবদিয়া পাড়া, ফদনার ডেইল ও নুনিয়াছড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সাথে নিয়ে এসেছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ গরু-ছাগল। গভীররাতে পানি বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কে সাগরতীরবর্তী এসব মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে বলে জানা গেছে।

কোর্ট বিল্ডিংয়ের নিচে আশ্রয় নেয়া পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার সুরা খাতুন বলেন, ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের কথা শুনার পর পরেই আমরা পরিবারের আটজন নিয়ে রাতেই এখানে চলে এসেছি। নিজের ঘরটুকু তালা মেরে আশ্রয়ের জন্য কম্বল নিয়ে এখানে চলে আসি। প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস সাথে আনতে পারিনি।
এই জায়গায় আশ্রয় নেয়া চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন ও নুর হোসেন বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় সকালে ঘরের উঠান বরাবরে পানি উঠেছে। আর বাতাস ও বৃষ্টি হলে চরপাড়া এলাকা ডুবে যায় প্রায় সময়। তাছাড়া বৃষ্টি হলে প্রতিরাত ১০ টার পর প্লাবিত হয় আমাদের এলাকা। এছাড়া এখন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদস্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য মাইকিং করেছে। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নিয়েছি।

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে শহরের মধ্যে আমার ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সোমবার রাতেই এই ওয়ার্ড থেকে শিশুসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ে এই ওয়ার্ডের মানুষ ক্ষতি হয় বেশি। ডুবে যায় প্রতিটি বাড়ি-ঘর। ভেসে যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তাই প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে এখানে বসবাসকারী। সন্ধ্যার পর থেকে বিপদ সংকেত বেড়ে যাওয়ায় মানুষগুলো দ্রুত ছুটেছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান জানান, রাতভর উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য ২০টির অধিক বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব বাস নিয়ে মানুষদের নিয়ে আসা হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এছাড়া সাবক্ষর্ণিক স্বেচ্ছাসেবীরা অবস্থান করছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

সন্তানদের নাগরিকত্ব লাভে কানাডার ইমিগ্রেশন আইন শিথিল

 
 
আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে কানাডায় ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদনকারীর ওপর নির্ভরশীল ২২ বছর বয়সের কম এবং অবিবাহিত সন্তানরা নির্ভরশীল সন্তান হিসেবে আবেদনকারীর সঙ্গে আবেদনপত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। ২০১৪ সালের ১ আগস্ট থেকে কানাডায় অভিবাসন নীতিতে ১৯ বছরের কম বয়সী সন্তানদের নির্ভরশীল সন্তান (ডিপেন্ডেন্ট চাইল্ড) হিসেবে আবেদনপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। এই তারিখের আগে নির্ভরশীল সন্তান (ডিপেন্ডেন্ট চাইল্ড)-এর সর্বাধিক বয়স ২২ বছরের নিচে ছিল।
 
টরন্টোস্থ ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট শামিম আরা বেগম জানান- ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ কানাডা গত ৩ মে এই পরিবর্তনের সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তন কার্যকরী হলে নির্ভরশীল সন্তানের সংজ্ঞা পূর্ববর্তী স্থানে অর্থাৎ আবার ২২ বছরের নিচে ফিরে আসবে। নতুন এই নিয়ম আগামী ২৪ অক্টোবর ২০১৭ থেকে কার্যকর হবে।
 
এদিকে, কানাডায় নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন সংক্রান্ত আইন বিল সি-৬ সিনেটে পাস হয়েছে। এই বিল পাসের ফলে কানাডায় অভিবাসীরা দেশটির নাগরিকত্বের জন্য দ্রুত এবং আগের চেয়ে আরও সহজে এখন আবেদন করতে পারবেন। সিনেটে বিলটি পাস হয়েছে। এতে ৪৫ টি ভোট বিলটির পক্ষে এবং ২৯ টি বিপক্ষে পড়ে।অটোয়াতে সিনেটররা বিলটি পর্যালোচনা করার জন্য হাউস অফ কমন্সে তাদের সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানালো জাতিসংঘ

 
 
 
দায়িত্ব পালনকালে নিহত তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় বাংলাদেশের তিনজন শান্তিরক্ষীসহ বিশ্বের ৪৩টি দেশের ১১৭ জন আত্মোৎসর্গকারী শান্তিরক্ষী কর্মীকে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ বাংলাদেশসহ ৪৩টি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধির হাতে এই মেডেল তুলে দেন।
 
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মালি মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. আবুল বাসার এবং একই মিশনে কর্তব্যরত বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মোতাহের হোসেন ও মো. সামিদুল ইসলাম নিহত হন ২০১৬ সালের ১৫ মে।
 
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই মেডেল গ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদসহ জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশ সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
 
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহাসচির গুতেরেজ কর্তব্যরত অবস্থায় জীবনদানকারী সামরিক ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী কর্মীর বিদেহী আত্মার স্মরণে জাতিসংঘ সদর দফতরের উত্তর লনে অবস্থিত পিসকিপিং মেমোরিয়াল সাইটে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
 
জাতিসংঘ নিযুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন।
 
সমবেত সুধিমন্ডলীর উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আজ যাদেরকে আমরা সম্মান জানালাম তারা পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্দশাগ্রস্থ মানুষগুলোকে রক্ষা এবং ঐসকল দেশকে সংঘাত থেকে শান্তিতে উত্তরণের মতো কঠিন কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য জীবনদানকারী এসকল শান্তিরক্ষী কর্মীদের সর্বোচ্চ অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।এর আগে আত্মদানকারী শান্তিরক্ষীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
 
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী দেশ। ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় বাংলাদেশের ১৩৩জন শান্তিরক্ষী মৃত্যুবরণ করেছেন।