Tuesday, May 30, 2017

চট্টগ্রাম জেলায় ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু


ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিতে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। ৬ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
এছাড়াও জেলায় ২৮৪টি মেডিকেল টিমকে ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সব চিকিৎসক-নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিভিল সার্জন, নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন ছাড়াও সিটি করপোরেশন (চসিক) নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলাসহ উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোর লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে চার লাখ ৪৫ হাজার ৮৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়াও অনেক স্কুল-কলেজ রয়েছে। এসবও খুলে দেয়া, অফিস-আদালতও খুলে দেওয়া হবে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিসি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা ও উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েও ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। সেখানে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রস্তুতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। সরকারিভাবে নগদ ছয় লাখ ৭২ হাজার টাকা ও ৩৪২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমরা আর সময়ের অপেক্ষা করছি না। সবাইকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসতে বলা হচ্ছে। কেউ না আসতে চাইলে জোর করে আনার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সময় একেবারে কম।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক সিদ্দিকী বলেন, জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৮৪টি মেডিকেল টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে একজন চিকিৎসক আর দুইজন সহকারী রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ১৪ টি উপজেলায় ১৬ থেকে ২৫টি মেডিকেল টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
সভায় রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল টিম, এম্বুলেন্স সহযোগে জরুরি মেডিকেল সার্ভিস প্রদানে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীতে টিউবওয়েল সংস্কার করার জন্য ৬০ জন মেকানিকস্কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে কৃষি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও এনজিও সংস্থাগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

No comments:

Post a Comment